উপক্রমণিকা

আমরা যাহা মনে করি, তাহা লোকের কাছে প্রকাশ করিতে হইলে, হয় মুখে মুখে বলি, নয় লিখিয়া প্রকাশ করি। মুখে মুখে বলিলে, লোকে তাহাকে কথোপকথন, বা অবস্থাবিশেষে বক্তৃতা বলে। লিখিয়া প্রকাশ করিতে হইলে, চিঠি, সংবাদপত্র, পুস্তক ইত্যাদিতে প্রকাশ করা যায়।
কিন্তু মুখেই বলি, আর লিখিয়াই বলি, বলিবার সময়ে কথাগুলি একটু সাজাইয়া লইতে হয়। সাজাইয়া না বলিলে, হয়ত তুমি যাহাকে বলিতেছ, সে তোমার সকল কথা বুঝিতে পারিবে না, নয়ত সে কথাগুলি গ্রাহ্য করিবে না। এই সাজানকে রচনা বলে।
রচনা অতি সহজ। মুখে মুখে কহিবার সময়েও আমরা সাজাইয়া কথা কই, তাহা না করিলে কেহ আমাদের কথা বুঝিতে পারিত না। অতএব যে মুখে কথোপকথন করিতে পারে, লিখিতে জানিলে সেও অবশ্য লিখিত রচনা করিতে পারে। তবে সকল কাজই অভ্যাসাধীন। মৌখিক রচনা সকলেরই অভ্যাস আছে। লিখিত রচনায় যাহাদের অভ্যাস নাই, তাহাদিগকে অভ্যাস করিতে হইবে। সেই অভ্যাস করাইবার জন্য এই পুস্তকের প্রথম অধ্যায় লিখিলাম।
আর মৌখিক রচনার সঙ্গে লিখিত রচনার একটু প্রভেদ এই আছে যে, লিখিত রচনার কতকগুলি নিয়ম আছে; সে নিয়মগুলি মৌখিক রচনায় বড় মানা যায় না—না মানিলেও বিশেষ ক্ষতি নাই, কিন্তু লিখিত রচনায় না মানিলেই নয়। দ্বিতীয় অধ্যায়ে সেই নিয়মগুলি বুঝাইব। তৃতীয় অধ্যায়ে পত্ররচনা শিখাইব।