রাজসিংহ

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “রাজসিংহ” একটি রাজনৈতিক ঐতিহাসিক উপন্যাস। মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব ও রাজপুত রাজা রাণা রাজসিংহের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল, সেটাই এই উপন্যাসের মূল বিষয়। উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়তে থাকে, কিন্তু চৈত্র, ১২৮৪ থেকে ভাদ্র, ১২৮৫ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত প্রকাশিত হয় বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকায় অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করে ১৮৮২ সালে ৮৩ পৃষ্ঠার প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় সংস্করণে পৃষ্ঠাসংখ্যা বেড়ে হয় ৯০। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ সংস্করণে পৃষ্ঠাসংখ্যা হয় ৪৩৪। এই সংস্করণটিই রাজসিংহ উপন্যাসের প্রামাণ্য সংস্করণ৷
রাজসিংহ উপন্যাস নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে৷ অনেকে মনে করেন, এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিফুষ্ট হয়ে উঠে৷ সমালোচকেরা একে সাম্প্রদায়িকতা দুষ্ট মনে করলেও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই “রাজসিংহ” উপন্যাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন—
সাধারণ ইতিহাসের একটা গৌরব আছে। কিন্তু স্বতন্ত্র মানবজীবনের মহিমাও তদপেক্ষা ন্যূন নহে। ইতিহাসের উচ্চচূড় রথ চলিয়াছে, বিস্মিত হইয়া দেখো, সমবেত হইয়া মাতিয়া উঠ, কিন্তু সেই রথচক্রতলে যদি একটি মানবহৃদয় পিষ্ট হইয়া ক্রন্দন করিয়া মরিয়া যায় তবে তাহার সেই মর্মান্তিক আর্তধ্বনিও, রথের চূড়া যে গগনতল স্পর্শ করিতে স্পর্ধা করিতেছে সেই গগনপথে উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠে, হয়তো সেই রথচূড়া ছাড়াইয়া চলিয়া যায়।
বঙ্কিমবাবু সেই ইতিহাস এবং মানব উভয়কেই একত্র করিয়া এই ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করিয়াছেন।