ছাত্র হইতে প্রাপ্ত

গগনমণ্ডলে বিরাজিতা কাদম্বিনী উপরে কম্পায়মানা শম্পা সঙ্কাশ ক্ষণিক জীবনের অতিশয় প্রিয় হওত মূঢ় মানবমণ্ডলী অহরহঃ বিষয় বিষার্ণবে নিমজ্জিত রহিয়াছে। পরমেশ প্রেম পরিহার পুরঃসর প্রতিক্ষণ প্রমদা প্রেমে প্রমত্ত রহিয়াছে। অম্বুবিম্বুপম জীবনে চন্দ্রার্ক সদৃশ চিরস্থায়ী জ্ঞানে বিবিধ আনন্দোৎসব করিতেছে, কিন্তু ভ্রমেও ভাবনা করে না যে, সেসব উৎসব শব হইলে কি হইবে এবং পরম নিধি প্রিয় পিতা পরোৎপরের প্রতি প্রীতি প্রভাবের অভাব করে, বিবেচনা করে না যে, তাঁহার সমীপে উত্তরকালে কি উত্তর করিবে। কদাপিও মূঢ় মানবমণ্ডলী মনোমধ্যে মুহূর্ত্তেকও বিবেচনা করে না যে, তাহারা কি অনিত্য পদার্থ প্রযত্ন পুরঃসর প্রতিপালন করিতেছে। এখন যে দেহে ধূলিকণা পতনে পাষাণ প্রহার প্রায় বোধ হয়, আশু সেই দেহ শ্বসমূহের করাল পদাঘাতে বিদীর্ণ হইবেক, এখন যাহার রাজীব রাজী বিরাজিত শয্যাতেও নিদ্রা হয় না, জীবনান্তে সে ধূলি কর্দ্দম অস্থিকণা কীর্ণ লক্ষ লক্ষ রক্ষো, যক্ষ, ভূত প্রেতাদির বাসস্থান শ্মশানে চিরনিদ্রিত হইবেক। এবং যে অঙ্গ কোমল কমল স্পর্শনে বিশীর্ণ হয় সে অঙ্গে গৃধিনী চঞ্চু আঘাতে খণ্ড খণ্ড করিবেক। যে লপনেন্দু শত ২ শশধর শোভা পাইতেছে, সে বদন কর্দ্দম মণ্ডিত হওত মৃমণ্ডলে পতিত থাকিবেক। যে নয়নে অণুরেণু অসি অনুমান হয় বায়স বায়সী নখাঘাতে সে নয়নোৎপাটন করিবেক। যে রসনা প্রমদাধর রস না পান করিয়া অন্য রস পান করে না, সে ওষ্ঠ নষ্ট করিয়া লোষ্ট্র ভক্ষণে কষ্ট পাইবেক। যে নাসিকা স্থলে চন্দনও বন্দনা পায় না, সে নাসিকা দুর্গন্ধ কীটাদি এবং গলিত শব-মাংসের ঘ্রাণ গ্রহণে বাধ্য হইবেক, যে শ্রবণ কামিনী কাকলী শ্রবণে সন্তোষ প্রাপ্ত হয় না, সে শ্রবণ শিবাগণের চীৎকার শ্রবণ করণে বাধ্য হইবেক, দিবাকর কর প্রকাশে মধুকর নিকর যে করে কমলিনী ভ্রমে মকরন্দ লোভে, ভ্রমিত সে কর কদর্য্য কীট নিকরে ব্যাপ্ত হইবেক। যে পদ কখন বিপদগ্রস্ত হয় নাই, এবং যে পদ কখন সম্পদ সংরক্ষণেও ধুলি সহ সাক্ষাৎ করে নাই, সে পদ স্বপদ পরিত্যাগ পুরঃসর ধূলি হইয়া যাইবেক। ধরাবাসিদিগের এই ধারা দর্শনে অশ্রু ধারা ধারে ধারে ধারণ হয় অতএব হে মানবগণ অনিত্য যত্নে ক্ষান্ত হও।

-সংবাদ প্রভাকর’, ২৩ এপ্রিল, ১৮৫২

(গুণাকর জনসহ সাক্ষাদভিলাষে নিরাশ জনস্য বিরচিত)