Our Blog

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

পদচিহ্নে নূতন দুর্গমধ্যে, আজ সুখে সমবেত, মহেন্দ্র, কল্যাণী, জীবানন্দ, শান্তি, নিমাই, নিমাইয়ের স্বামী, সুকুমারী। সকলে সুখে সম্মিলিত। শান্তি নবীনানন্দের বেশে আসিয়াছিল। কল্যাণীকে যে রাত্রে আপন কুটীরে আনে, সেই রাত্রে বারণ করিয়াছিল যে, নবীনানন্দ যে স্ত্রীলোক, এ কথা কল্যাণী স্বামীর সাক্ষাতে প্রকাশ না করেন। একদিন কল্যাণী তাহাকে অন্ত:পুরে ডাকিয়া পাঠাইলেন। নবীনানন্দ অন্ত:পুরমধ্যে প্রবেশ করিল। ভৃত্যগণ বারণ করিল, শুনিল না।
শান্তি কল্যাণীর নিকট আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ডাকিয়াছ কেন?”
ক। পুরুষ সাজিয়া কত দিন থাকিবে? দেখা হয় না, – কথা কহিতেও পাই না। আমার স্বামীর সাক্ষাতে তোমায় প্রকাশ হইতে হইবে।
নবীনানন্দ বড় চিন্তিত হইয়া রহিলেন, অনেক্ষণ কথা কহিলেন, শেষে বলিলেন, “তাহাতে অনেক বিঘ্ন কল্যাণী!”
দুই জনে সেই কথাবার্তা হইতে লাগিল। এদিকে যে ভৃত্যবর্গ নবীনানন্দের অন্ত:পুরে প্রবেশ নিষেধ করিয়াছিল, তাহারা গিয়া মহেন্দ্রকে সংবাদ দিল যে, নবীনানন্দ জোর করিয়া অন্ত:পুরে প্রবেশ করিল, নিষেধ মানিল না। কৌতূহলী হইয়া মহেন্দ্রও অন্ত:পুরে গেলেন। কল্যাণীর শয়নঘরে গিয়া দেখিলেন যে, নবীনানন্দ গৃহমধ্যে দাঁড়াইয়া আছে, কল্যাণী তাহার গায়ে হাত দিয়া বাঘছালের গ্রন্থি খুলিয়া দিতেছেন। মহেন্দ্র অতিশয় বিস্ময়াপন্ন হইলেন – অতিশয় রুষ্ট হইলেন।
নবীনানন্দ তাঁহাকে দেখিয়া হাসিয়া বলিল, “কি গোঁসাই! সন্তানে সন্তানে অবিশ্বাস?”
মহেন্দ্র তখন শান্তিকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি কে?”
শা। শ্রীমান নবীনানন্দ গোস্বামী।
ম। সে ত জুয়াচুরি ; তুমি স্ত্রীলোক?
শা। এখন কাজে কাজেই।
ম। তবে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি – তুমি স্ত্রীলোক হইয়া সর্বদা জীবানন্দ ঠাকুরের সহবাস কর কেন?
শা। সে কথা আপনাকে নাই বলিলাম।
ম। তুমি যে স্ত্রীলোক, জীবানন্দ ঠাকুর তা কি জানেন?
শা। জানেন।
শুনিয়া, বিশুদ্ধাত্মা মহেন্দ্র অতিশয় বিষণ্ণ হইলেন। দেখিয়া কল্যাণী আর থাকিতে পারিল না ; বলিল, “ইনি জীবানন্দ গোস্বামীর ধর্মপত্নী শান্তিদেবী |”
মুহূর্ত জন্য মহেন্দ্রের মুখ প্রফুল্ল হইল। আবার সে মুখ অন্ধকারে ঢাকিল। কল্যাণী বুঝিল, বলিল, “ইনি ব্রহ্মচারিনী |”

No comments:

Post a Comment

বঙ্কিম রচনাবলী Designed by Templateism | Blogger Templates Copyright © 2014

Theme images by mammuth. Powered by Blogger.